• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২৭-৯-২০২২, সময়ঃ দুপুর ০২:৪৪

পর্যটনের সম্ভাবনা গাইবান্ধার চরাঞ্চল



মেহেদী হাসান ►

গাইবান্ধার চার উপজেলায় নদীর বুকে জেগে ওঠা ১৬৫টি চরকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র করে গড়ে ওঠার বিশাল এক সম্ভাবনা রয়েছে। এই চরাঞ্চলগুলো পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হলে একদিকে যেমন চরাঞ্চলের মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, তেমনি এ অঞ্চলের মানুষও শহর জীবনের বাহিরে গিয়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে। আর তা হলে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনসহ ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে চরাঞ্চলের এসব মানুষের জীবন যাত্রার।

ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও যমুনা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় ১৬৫টি চর। আর এসব চরে বসবাস করে প্রায় চার লাখ মানুষ। তাদের একমাত্র প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষি। কৃষির উপর নিভর করেই তারা খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকে।

বিভিন্ন সময়ে পূর্ব গাবগাছী, বাজে ফুলছড়ি, পোড়ারচর, কড়াইবাড়ী, পূর্ব খাটিয়ামারী, পশ্চিম দেলুয়াবাড়ীসহ কয়েকটি চরে গিয়ে দেখা গেছে, মাটি ও বালুতে ধান, পাট, গম, ভুট্টা, বাদাম, কাউন, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ হয়। এসময় দিগন্ত জুড়ে মাঠের পর মাঠ সবুজ ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকলে প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। আর এসব চরগুলোকে এখন যদি পরিকল্পনা করে বিনোদন কেন্দ্র করে এগিয়ে নেওয়া যায় তাহলে আমুল পরিবর্তন ঘটবে চরবাসীর জীবনে। পুরো সপ্তাহের কর্মব্যস্ততা শেষে অনেকেই খোঁজেন পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার একটা ঠিকানা। আর এমন বিনোদন প্রিয় মানুষদের আকর্ষণ করা যেতে পারে এসব চরাঞ্চলগুলোর প্রতি।

চরাঞ্চলগুলোয় রাস্তার দুইধারে বিভিন্ন প্রকার ফুল ও ফলের গাছ, শোভাবর্ধনকারী গাছ, ছায়া প্রদানকারী গাছ লাগানো হলে দৃষ্টিনন্দন হবে চরগুলো। থাকতে হবে খাবারের ব্যবস্থা, বিদ্যুতের ব্যবস্থা, বিশ্রামের জন্য ঘরসহ বসার ব্যবস্থা। তৈরি হতে পারে নারিকেল ও সুপারির বাগান। যা আকর্ষণীয় এক দৃশ্যের সৃষ্টি হবে ও চলার পথে দৃষ্টি কাড়বে মানুষের। এতে করে বেকার যুবকদের পাশাপাশি চরের মানুষের জন্যও সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের।

নিরাপত্তার জন্য শ্যালো ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকাগুলোতে লাইফ জ্যাকেট ও নিয়মিত পুলিশের টহলদারি থাকতে হবে। জীবনযাপনকে সহজ করতে এসব চরে রয়েছে দোকান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন চরে দেখা মিলবে মহিষ ও ঘোড়া। এ ছাড়া শিশুদের আকর্ষণ করতে চরাঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন ধরনের খেলনা সামগ্রীর ব্যবস্থা রাখা। এসব সুবিধা থাকলে মানুষ চরাঞ্চলগুলোকে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে সহজেই। চরগুলো স্থায়ীভাবে (সিসি ব্লক দ্বারা) সংরক্ষণ করা হলে মানুষ আর নদীভাঙ্গনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করবে না। এতে করে একদিকে যেমন রক্ষা পাবে এসব চর, তেমনি বিনোদনের জন্য উদ্যোক্তারা গড়ে তুলতে পারবেন বিভিন্ন স্থাপনা। এজন্য দরকার সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।

কুন্দেরপাড়া, বাজে তেলকুপি ও কালুরপাড়া চরসহ যেসব চরে বন্যার পানি ওঠেনা এমন চরগুলোতে যদি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠে তাহলে একদিকে যেমন নদীর তীর সংরক্ষণ হবে তেমনি চরের মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হবে। শহর জীবনের বাহিরে গিয়ে একটু বিনোদনের জায়গা আমরা সবাই খুঁজি। যেখানে নিরাপদে, ভালো পরিবেশে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে যাওয়া যাবে। কিন্তু হতাশ হই এমন জায়গা না পেয়ে। তাই চরাঞ্চলগুলোকে ঘিরে যদি নিরাপদ কোন বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয় সেটা নিঃসন্দেহে খুবই ভালো।