• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৫-৪-২০২৬, সময়ঃ সকাল ১১:০০

ফুলছড়িতে দুই গরু চোরকে গণধোলাই মেম্বারের বাড়ি থেকে ছেড়ে দেওয়ায় প্রশ্ন




ফুলছড়ি প্রতিনিধি

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের চর হরিচন্ডী গ্রামে গরু চুরির অভিযোগে আটক দুই ব্যক্তিকে গণধোলাইয়ের পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, চর হরিচন্ডী গ্রামের বাদশা মিয়ার দুটি গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। 

পরে উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রশিদের বাড়িতে নিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী ঘাট এলাকার শরিফুল ইসলাম (৪৫) ও জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার লাবণ্য মিয়া (৪০)। তবে বিকেলে ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশে সোপর্দ না করে এভাবে ছেড়ে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের মারধরের দৃশ্য দেখা যাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, চর হরিচন্ডী গ্রামে গরু চুরির সময় দুজনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের গণধোলাই দিয়ে ইউপি সদস্যের বাড়িতে নিয়ে রাখে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, গরুর মালিক কোনো অভিযোগ না করায় আটক ব্যক্তিদের তাঁদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গরুর মালিক বাদশা মিয়া বলেন, আমার গরু ফিরে পেয়েছি। তাই আর কোনো অভিযোগ করিনি।

ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হুদা বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, চুরির অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের আইনের আওতায় না আনলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।