• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

মোটরসাইকেল সার্ভিসিং ও পার্টস ব্যবসায়ীরা চরম দুশ্চিন্তায়



ভবতোষ রায় মনা ►

গাইবান্ধা জেলা শহরের মোটরসাইকেল পার্টসের দোকানে কমে গেছে বেচা-বিক্রি। পাশাশাশি জ্বালানি তেলের কারণে রাস্তায় মোটরসাইকেল চলাচলা কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে মোটরসাইকেল সার্ভিসিং-এর দোকানগুলোতে। বেচা-বিক্রি ও কাজকর্ম না থাকায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে। মাস শেষে দোকান ভাড়া ও কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করতে হিমশীম খাচ্ছেন। তারা দ্রুত জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সরেজমিনে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন গ্যারেজ ও পার্টসের দোকান ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো মোটরসাইকেলের ভিড় নেই। যারা নিয়মিত সার্ভিসিং করাতেন, জ্বালানি সাশ্রয়ে তারা এখন মোটরসাইকেল বাড়ি থেকে বের করাই কমিয়ে দিয়েছেন। এতে গ্যারেজগুলোতে কাজের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জ্বালানি খরচ বাড়ায় এবং মোটরসাইকেল ব্যবহার কমে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে অসংখ্য মেকানিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর।
গাইবান্ধা শহরের গোরস্থান রোডের সবুজ মেকানিক জানান, আগের মতো আর কাজ নেই। দোকান খুলে সারাদিন বসে থাকতে হয়। 

হঠ্যাৎ দুই, একটা মোটরসাইকেল আসে সার্ভিসিং করতে। মাস খানেক আগেই প্রত্যক দিন ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেল সার্ভিসিং করতোম। কিন্তু এখন দিনে ২ থেকে ৩টিও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তেলের অভাবে মানুষ এখন বাইক নিয়ে রাস্তায় বের হতে ভয় পাচ্ছে। শহরের বাংলা মোটরসের স্বত্বাধিকার মো. ফিরোজ কবির বলেন, আগে দিনে ১ হাজার টাকা বিক্রি হলে, এখন তেল সংকটের কারণে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বিক্রি হয়। আবার কোনো দিন বিক্রি হয় না। এভাবে চলতে থাকলে দোকানের খরচ ও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা বলছেন, তেলের দামের উর্ধ্বগতি এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পাওয়ার কারণে তারা ব্যক্তিগত যানের চেয়ে গণপরিবহনকেই এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এতে করে শখের বাইকটি গ্যারেজে বসেই থাকছে।

এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা জেলা মোটর মেকানিক কমিটির সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। তারা দ্রুত জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। গাইবান্ধার কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির একটি বড় অংশ এই ছোটো ছোটো গ্যারেজ ও পার্টসের দোকানের ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি সংকটের এই প্রভাবে জেলার এই খাতের হাজারো পরিবার আজ চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।