• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

রংপুরে আলুতে লোকসান বাদামে আশার আলো



রংপুর প্রতিনিধি ►

রংপুর অঞ্চলের আলু চাষিরা গত দুই মৌসুম ক্রমাগত লোকসানের পর এবার অনেক চাষি বাদাম চাষে ঝুঁকছেন। ফলে চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে চীনাবাদামের চাষ বেড়েছে।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে ৫ হাজার ৭৪৮ হেক্টর জমিতে ১২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি চীনাবাদাম উৎপাদন হয়েছে। প্রকার ভেদে প্রতিমণ বাদাম বিক্রি হয়েছে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকায়। সেই হিসাবে চলতি মৌসুমে কয়েক কোটি টাকার বাদাম উৎপাদন হয়েছে। খরচ তুলনামূলক কম এবং আলুর দাম না থাকায় এ অঞ্চলের চাষিদের মধ্যে চীনাবাদাম চাষে আগ্রহ বেড়েছে। গত বছর এ অঞ্চলে বাদামের আবাদ হয়েছিল ৫ হাজার হেক্টরের কিছু বেশি জমিতে। এবার ২৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি চীনাবাদামের চাষ হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়। এ জেলার ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার চরে প্রচুর পরিমাণ চীনাবাদাম চাষ করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলায় এ মৌসুমে চীনাবাদাম চাষ হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। দুই বছর আগে আবাদের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। 

গাইবান্ধা জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীবেষ্টিত ২৮টি ইউনিয়নের ১৫০টির বেশি চরে মোট ১ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর জেলায় ২৬৫ হেক্টর, লালমনিরহাট জেলায় ৫০৫ হেক্টর ও নীলফামারী জেলায় ৪৩ হেক্টর জমিতে চীনাবাদাম চাষ করা হয়েছে। নদীর চরাঞ্চলের বেলে ও দোআঁশ মাটি বাদাম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ ছাড়া অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষে খরচ কম এবং বাজারমূল্য ভালো থাকায় তারা এবার বেশি জমিতে বাদামের আবাদ করেছেন এমনটা জানিয়েছেন কৃষি অফিস ও স্থানীয় বাদাম চাষিরা। এ ব্যাপারে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাদাম চাষে খরচ কম। দামও ভালো। আলুতে লোকসান হওয়া অনেকে বাদাম চাষ করছেন।