• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

শিলিগুড়ি করিডোর সুরক্ষায় হাই-লেভেল বৈঠকে বসছেন অমিত শাহ



অনলাইন ডেস্ক ►
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের লালমনিরহাটে বন্ধ থাকা বিমানঘাঁটি উন্নয়ন এবং তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনায় বেইজিংয়ের সম্পৃক্ততার খবরে নড়েচড়ে বসেছে নয়াদিল্লি।

অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা জোরদার করতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করতে যাচ্ছেন। এই খবর দিয়েছে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।

শনিবার (১৭ জুলাই) শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় (পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উত্তরবঙ্গ সচিবালয়) এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভারতের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।

ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ভারতের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের ভূ-রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর এবং তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে বেইজিংয়ের সাথে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি স্বাক্ষর ভারতের এই উদ্বেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিকিম ও শিলিগুড়ি করিডোর হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা তিস্তা নদীর অববাহিকাকে পুনর্গঠন করার এই চীনা পরিকল্পনাকে দিল্লির নীতিনির্ধারকেরা তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।

প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়, শিলিগুড়ি করিডোর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের অব্যবহৃত বিমানঘাঁটিটি পুনরায় সচল ও আধুনিকায়নে চীনের আগ্রহের খবরে গভীর নজর রাখছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার চওড়া এই সংকীর্ণ করিডোরটি ভারতকে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (সেভেন সিস্টার্স) সাথে সংযুক্ত করেছে। নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যবর্তী এই এলাকায় যেকোনো অস্থিতিশীলতা ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। এই প্রেক্ষিতে অমিত শাহের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৈঠকে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অগ্রগতি বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্ত বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে ১,০০০ একর জমি হস্তান্তর করেছেন, যা পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে থমকে ছিল। এছাড়া শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে দ্রুত সেনা ও সামরিক রসদ পরিবহনের জন্য পাতাল রেল প্রকল্প, অতিরিক্ত রেললাইন নির্মাণ, বাগডোগরা ও হাসিমারা বিমানঘাঁটির আধুনিকায়ন এবং মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজও জোরদার করা হচ্ছে।

শিলিগুড়ির বৈঠক শেষ করে অমিত শাহ কলকাতায় ফিরবেন এবং রবিবার আলিপুরের ‘সৌজন্য’ গেস্ট হাউসে পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আরেকটি বিশেষ বৈঠক করবেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে নবনির্মিত ‘ওয়ার্ড মিউজিয়াম’ উদ্বোধন করবেন এবং হাওড়ার সাঁকরাইলে একটি দুগ্ধ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং বেইজিংয়ের সাথে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব ভারতের নীতিনির্ধারকদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে, যার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দিল্লির এই নজিরবিহীন সামরিক ও কৌশলগত তোড়জোড়।