- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
সুন্দরগঞ্জে শুন্য পদের ভারে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে
এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ ►
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে উপজেলা কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারি শিক্ষকের শুন্য পদের ভারে শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্বক ভাবে ভেঙে পড়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে পাঠদান চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় তদারকির অভাবে প্রতিষ্ঠান সমূহের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে একজন শিক্ষা অফিসার ও ১১ জন সহকারি শিক্ষা অফিসারের অনুমোদিত পদ রয়েছে। সে স্থলে একজন শিক্ষা অফিসার ও ২ জন সহকারি শিক্ষা অফিসার আছে। ৯টি সহকারি শিক্ষা অফিসারের পদ শুন্য রয়েছে। উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২৫৯টি। এর মধ্যে ৮৫ জন প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য আছে। সেই সাথে সহকারি শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৩৯০টি। এর মধ্যে ১৫৪টি পদ শুন্য আছে।
অপরদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একজন শিক্ষা অফিসার ও একজন সহকারি শিক্ষা অফিসারের অনুমোদিত পদ রয়েছে। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে পদ দুইটি শুন্য আছে। সেসিপ প্রকল্পের একাডেমিক সুপারভাইজার উপজেলার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। উপজেলায় দুইটি সরকারি স্কুলসহ ৯১টি নিম্ন ও মাধ্যমিক স্কুল, ৫৯টি মাদ্রাসা, ১৫টি কলেজ এবং ১৫টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন প্রধান শিক্ষক, ৩ জন অধ্যক্ষ ও ৮ জন সুপার, ৪ জন কারিগরি প্রতিষ্ঠান প্রধান, ১০৫ জন সহকারি শিক্ষকের পদ শুন্য আছে।
দুলাল পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মতিউর রহমান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে করনিক নেই। সে কারনে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অফিসের কাজ করতে হয়। অফিসের কাজে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ স্কুলের বাইরে গেল, পাঠদান কার্যক্রমে অনেকটা ব্যহত হয়। এছাড়া সহকারি শিক্ষা অফিসার না থাকায় তদারকির অভাবে প্রতিষ্ঠান সমুহের কার্যক্রম অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে।
ঘগোয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হাকিম বলেন, প্রতিষ্ঠান না থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা থাকে না। গণিত, ইরেজি, রসায়ন পদার্থ বিষয়ের সহকারি শিক্ষক যেসব প্রতিষ্ঠান নেই ওইসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বেশ সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘ দিন থেকে শিক্ষা অফিসার ও সহকারি শিক্ষা অফিসারের পদ শুন্য রয়েছে। সে কারনে প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিসিয়াল কার্যক্রম মারাত্বক ভাবে ব্যহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন, জটিলতার কারনে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শুন্য আছে। আশা করা যাচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে পদগুলো পুরণ হবে। সহকারি শিক্ষা অফিসারের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে পদগুলো পুরণ করা সম্ভব হবে।
এ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতাউর রহমান বলেন, শুধু সুন্দরগঞ্জ নয়, গাইবান্ধার ৭টি উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলায় শিক্ষা অফিসার ও সহকারি শিক্ষা অফিসারের পদ শুন্য আছে। একাডেমিক সুপারভাইজারগণ অফিসিয়াল কার্যক্রম তদারকি করছেন। বহুবার শিক্ষা অধিদপ্তরে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। জনবল না থাকায় পদগুলো পুরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সে কারনে অফিসিয়াল কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।