- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
হামের প্রকোপের মধ্যে ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি
অনলাইন ডেস্ক ►
বর্তমানে দেশে হামের ভয়াবহতার পাশাপাশি ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সাধারণ মশা (কিউলেক্স) কিছুটা কমলেও বেড়েছে এডিস মশার বিস্তার। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামে আক্রান্ত শিশুদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বৃষ্টির ফলে পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা এবং নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমার কারণে এডিস মশা বাড়ছে। আগে শুধু স্বচ্ছ পানিতে এডিস জন্মাতো, কিন্তু এখন ঢাকার নোংরা পানিতেও এই মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। গত ৫ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই ঢাকা শহরের বাসিন্দা। ২০২৩ সাল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর (মৃত্যু ১৭০৫ জন)। এ বছর মে মাসের মধ্যেই ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশারের মতে, এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ গত বছরের চেয়ে বেশি হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। স্যালাইন, ওষুধ ও পরীক্ষার সামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, শুধু মশার ওষুধ ছিটিয়ে (ফগিং) ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ এবং বৈজ্ঞানিক নগর পরিকল্পনা। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন না রাখলে কেমিক্যাল ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া যাবে না।